হ্যালোইন কি? কিভাবে এলো? হ্যালোইনের ইতিহাস


আপনি কখনো না কখনো হয়ত হ্যালোইন কথাটার সাথে পরিচিত হয়েছেন। এই শব্দটি শুনলেই আমাদের মাথায় আসে অদ্ভুত সব পোশাক, বিশাল বিশাল মিষ্টি কুমড়া, ট্রিক অর ট্রিট ইত্যাদির কথা। কারণ, হ্যালোইন সন্ধ্যায় আমরা সাধারণত এসব কার্যকলাপই দেখতে পাই। কেউ ডাইনি, জলদস্যু, ভ্যাম্পায়ার এর পোশাক আবার কেউ স্পাইডারম্যান, জম্বি এবং ব্যাটম্যানসহ বিভিন্ন অদ্ভুত রকমের পোশাক বা কস্টিউম পরে হ্যালোইনের রাতে ঘুরে বেড়ায়। ছোট শিশুরা সন্ধ্যার পর বেরিয়ে পরে ট্রিক অর ট্রিট খেলার মাধ্যমে ক্যান্ডি ও লজেন্স উপহার সংগ্রহের উদ্দ্যেশ্যে। এছাড়াও প্রেতাত্মা তাড়াবার উদ্দেশ্যে মিষ্টি কুমড়া বা অন্য কোন বড় সবজির ভেতরটা ফাঁপা করে এর ভেতরে আলো জ্বালিয়ে দিতেও দেখা যায়। তবে এর পেছনে রয়েছে একটি গল্প। এ সবকিছু এবং হ্যালোইন কি? কিভাবে এলো? আর হ্যালোইন এর ইতিকথা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আজ। 

প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ তারিখ মৃত আত্মাদের স্মরণে পালিত হয় হ্যালোউইন দিবস। কিন্তু এই হ্যালোইন দিবসের উতপত্তি কোথায় তা কি আমরা জানি?

‘হ্যালোউইন’ শব্দটি এসেছে স্কটিশ ভাষার শব্দ "অল হ্যালোজ ইভ" থেকে যার অর্থ পবিত্র সন্ধ্যা। সময়ের সাথে সাথে অল হ্যালোজ ইভ পরিবর্তিত হয় হ্যালোউইন নামে।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে আজকের দিনের আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও উত্তর ফ্রান্সে বসবাস করতো এক জাতি যাদের নাম ছিল কেল্টিক। নভেম্বরের প্রথম দিনটি তাদের নববর্ষ বা ‘সাম-হেইন’ উৎসব হিসাবে পালন হতো। ‘’সাম-হেইন’’ একটি আইরিশ শব্দ যার মানে দাঁড়ায় সামার এর শেষ বা গ্রীষ্মের শেষ। এই দিনটিকে তারা গ্রীষ্মের শেষ দিন এবং অন্ধকার বা শীতের শুরু মনে করতো। আর অক্টোবরের শেষ রাত বা ৩১ অক্টোবর কে মনে করতো সবচেয়ে খারাপ রাত, যেই রাতে সকল প্রেতাত্মা ও অতৃপ্ত আত্মা তাদের মাঝে ফিরে আসে। এদের সঙ্গে যদি মানুষের দেখা হয় তবে সেই মানুষের ক্ষতি হতে পারে। আর তাই মানুষরা এই রাতে বিভিন্ন রকম ভূতের মুখোশ ও কাপড় পরে কাটাতো যাতে আত্মারা তাদের চিনতে না পারে। 

রাতের বেলা আগুনের পাশে মুখোশ পরে বৃত্তাকারে একসঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে মন্ত্র বলা, অন্যের বাড়িতে থাকাসহ সামাজিক ভাবে একত্র হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো ছিল তাদের এ রীতির অন্তর্ভুক্ত। সময়ের সাথে সাথে কেল্টিক জাতির এই ‘সাম-হেইন’ উৎসবই এখনকার দিনে ‘হ্যালোইন’ নামে ডাকা হয়।

হ্যালোইন অনুষ্ঠানের সঙ্গে দুটো ব্যাপার জড়িত আছে। একটি হচ্ছে ট্রিক অর ট্রিট, আর আরেকটি হল জ্যাকের লন্ঠন। জ্যাক ছিলেন একজন খারাপ লোক। তার কাছে ছিল অঢেল ধন-দৌলত কিন্তু সে কখনো কাউকে সাহায্য করত না। তাই সে মৃত্যুর পর স্বর্গ লাভ করতে পারে না কিন্তু সে শয়তানের সাথে কুট কৌশলে নরকের হাত থেকে বেঁচে যায় আর শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত পৃথিবীতে লন্ঠন হাতে ঘুরে বেড়াবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। এই গল্পটি আয়ারল্যান্ড থেকে আস্তে আস্তে আমেরিকাতে ছড়িয়ে পড়ে। তারা কৃপণ জ্যাক ও লন্ঠন এর চেহারা এবং পতন বোঝাতে মিষ্টি কুমড়া ও অন্যান্য বড় সবজির গায়ে এরকম আকৃতি করে কাটত। 

আর ছোট ছোট বাচ্চারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে আর দরজা নক করে এবং বলে ট্রিক অর ট্রিট, তখন আপনাকে তাদের ঝুলিতে কিছু ক্যান্ডি বা খাবার দাবার দিয়ে দিতে হবে।

হ্যালোউইন এর উৎসব পালনের শুরুটা হয়েছিল মধ্য যুগে। আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ডের উচু ভূমি ও ফ্রান্সের উওর অংশ জুড়ে তখন কেল্টিক সভ্যতার বিস্তার। তারা মনে করত যত ভূত-প্রেত আছে, সবাই নাকি এ রাতে জনবসতিতে চলে আসে । আর সেই সব ভূত-প্রেতদের খুশি করতে না পারলেই বিপদ! আর সে জন্যই এই ৩১ অক্টোবরের রাতটিতে পালন করা হয় হ্যালোইন উৎসব হিসেবে। এই হ্যালোইন উদযাপন নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় প্রস্তুতি চলে পুরো মাস জুড়ে। এ নিয়ে প্রতিবছর ব্যবসাও হয় বিলিয়ন ডলারের। বর্তমান বিশ্বে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই হ্যালোইন উদযাপন করা হয়। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এমন কি ইউনিসেফসহ এখন বাংলাদেশেও এই হ্যালোউইন উৎসব পালন করতে দেখা যায়।

আর্কাইভ

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ